চীফ রিপোর্টারঃ ডিবির ধারাবাহিক সাফল্যের জালে এবার ময়মনসিংহের আলোচিত যুবলীগ কর্মী শপু মৃত্যু রহস্য উম্নোচিত।
ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া এলাকায় আলোচিত যুবলীগ কর্মী শফিকুল ইসলাম শপু হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পরিকল্পিতভাবে স্বামীকে হত্যা করে লাশ গুম করার স্বীকারোক্তি দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতি।
বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) দুপুরে নিহত শপুর স্ত্রী ইতির বাড়ির পরিত্যক্ত পুকুর থেকে শপুর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ হত্যাকাণ্ডে ইতির জড়িত থাকা ও স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যাকান্ডের মূল কারন ছিলো পারিবারিক কলহ। নিহত শফিকুল ইসলাম শপু বিবাহিত থাকার পরেও ভালবেসে ইতি নামের একটি মেয়েকে শর্ত মোতাবেক বিয়ে করেছিলো। যার পরিনামে তাকে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হতে হলো।
ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার-ইনচার্জ মোঃ শাহ কামাল আকন্দ পিপিএম এর নির্দেশে ক্রমে এস.আই মোঃ মনিরুজ্জামান ১৩/০৬/১৯ ইং তারিখ কোতোয়ালী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৩/০৬/১৯ ইং তারিখে আসামীর নিজ বাড়ী হতে জড়িত সন্দেহে আসামীকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামী মামলার ঘটনার সাথে জড়িত আছে মর্মে স্বেচ্ছায় বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।
সূত্রমতে, আকুয়া হাবুন বেপারীর মোড় সংলগ্ন আকুয়া মোড়লপাড়া তাজন হজন রোডস্থ নিহতের স্ত্রী আফরোজা শেখ ইতি (২২) এর বাসার ০৫ (পাঁচ) গজ সামনে পঁচা পুকুরে কচুরী পানার ভিতরে হত্যার পরে নিহতের লাশ লুকিয়ে রাখে । উক্ত ঘটনায় মোট ২ জনকে আসামীসহ অজ্ঞাতনামা আরো ২/৩ জন আসামীর বিরুদ্ধে একটি ময়মনসিংহ কোতুয়ালী মডেল থানায় টি হত্যা মামলা হয়।
আলোচিত এই হত্যার রহস্য উম্নোচনে ডিবি গত ১৩/০৬/১৯ ইং তারিখে তদন্তভার প্রাপ্ত হয়। এই মামলায় এস.আই মোঃ মনিরুজ্জামান তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।
যেভাবে উন্মোচন হলো হত্যাকান্ডের রহস্যঃ ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবূ দুই বিয়ে করে । প্রথম স্ত্রী মাহমুদার ঘরে একটি পুত্র সন্তান আছে । সে উক্ত স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি কে তার পূর্বের স্বামী সন্তান থাকা সত্বেও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে ইতিকে তার পূর্বের স্বামীর ঘর হতে নিয়ে এসে বিয়ে করে । শর্ত ছিল আগের স্ত্রীকে তালাক দিবে । এরপর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রী (যুবলীগ নেতা আজাদ এর বোন ) ইতি কে নিয়ে আজাদের বাড়িতে থাকা শুরু করে । কিন্তু প্রথম স্ত্রী কে তালাক দেয় না বরঞ্চ চুপেচাপে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রাখে। দ্বিতীয় স্ত্রী এ নিয়ে তাকে প্রায় সময় বকা বাধ্য করে। আজাদ হত্যার পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবু তার দ্বিতীয় স্ত্রী ইতির সাথে আগের মত ব্যবহার না করে প্রথম স্ত্রীর সাথে যোগাযোগ বেশি করে । এ নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয় । সে আগের স্বামী সন্তান ফেলে সবুর সাথে বিয়ে হয় কিন্তু কথা ছিল প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিবে । কিন্তু প্রথম স্ত্রীকে তালাক না দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ বেশি বেশি করায় দ্বিতীয় স্ত্রী মানসিক বিপদগ্রস্থ হওয়ায় সিদ্ধান্ত নেয় যে কিছু একটা করবে । ঘটনার দিন ১০ জুন ২০১৯ তার স্বামী গোপন দুপুরে প্রথম স্ত্রীর কাছে যায় যে। দ্বিতীয় স্ত্রী তার প্রথম স্ত্রী বাড়িতে গিয়ে তার স্বামীকে দেখতে পায় । এ নিয়ে তার ভিতর চরম অসন্তোষ বিরাজ করে এবং সিদ্ধান্ত নেয় যে আজ রাতে যেকোনো একটি ঘটনা ঘটাবে । দুপুরের পর ভিকটিম শফিকুল ইসলাম সবু প্রথম স্ত্রীর নিকট থেকে আড়াইটার দিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে আসে । বিকেলে পাশের মোরে খেলা দেখে রাত অনুমান ১২ টার দিকে বাসায় এসে প্রতিদিনের ন্যায় ঘুমের বড়ি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে । দ্বিতীয় স্ত্রী ইতি পূর্বে প্ল্যান মোতাবেক ওড়না দিয়ে স্বামীর গলা পেঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে । ভোর রাতে বিছানার চাদর দিয়ে পেচিয়ে টেনে নিয়ে পাশের পুকুরে কচুরি নিচে লাশ রেখে আসে । ওড়না পুকুরে ঢিল দিয়ে ফেলে দেয়।
এ ঘটনায় ১৩ জুন রাতে কোতোয়ালী মডেল থানায় নিহতের মা নুরুন্নাহার বাদি হয়ে আফরোজা শেখ ইতি ও তার বড় ভাই দীন ইসলাম ওরফে দীনেশসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পরে ঘটনার অধিকতর তদন্তে ডিবি পুলিশের এসআই মোঃ মনিরুজ্জামানকে তদন্তকারী অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ১৪ জুন বেড়িয়ে আসে শপু হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য।

